রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত পান্থকুঞ্জ পার্ক এবং এর আশপাশের ইউনিলিভার পার্ক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাদে চলছে মাদকের রমরমা কারবার। পার্কগুলোর ভেতরে এবং বাইরের ফুটপাত জুড়েই এখন মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের প্রকাশ্য আনাগোনা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, এই চক্রটিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে গণমাধ্যমের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা কিছু অসাধু চক্র।
কথিত সাংবাদিকদের চাদর: অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্পটগুলোতে মাদক বিক্রির নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের অভয় অরণ্য তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে ‘কথিত সাংবাদিক’ পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি। এরা মূলত বিভিন্ন মিডিয়ার কার্ড ঝুলিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে মাদক কারবারিদের রক্ষা করতে এরা একধরণের ঢাল হিসেবে কাজ করে। কোনো অপরাধী ধরা পড়লে বা ঝামেলায় পড়লে এই কথিত সাংবাদিকরাই ‘মিডিয়া প্রেশার’ এর ভয় দেখিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা ও সখ্যতার অভিযোগ: পার্কগুলোর আশেপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার এই দাপটের পেছনে স্থানীয় থানা পুলিশের একাংশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনসাধারণের মনে। অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশের কিছু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সোর্সদের সাথে মাদক চক্রের নিয়মিত সখ্যতা রয়েছে। যার ফলে প্রায়ই অভিযানের আগে খবর ফাঁস হয়ে যায় এবং মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে দু-একজন চুনোপুঁটি মাদকসেবী ধরা পড়লেও মূল গডফাদাররা বীরদর্পণে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাঁড়াশি অভিযান:মাদক বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন—মাদক কারবারি বা তাদের সহায়তাকারী যেই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, পার্কের ভেতরে এবং চারপাশের মাদক স্পটগুলো উচ্ছেদে বর্তমানে একটি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
