নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর এবার গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সংগঠনটির সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী এবং সংবিধানের ৬৬ ধারা অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
নাজিবুর রহমান বলেন, দল থেকে বহিস্কার করার পরে তিনি আর দলীয় মনোনীত প্রার্থী নন। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর যোগ্যতাও তার নেই। ফলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকারকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে এ ধরনের দুটি ঘটনা ছিল। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিদের দল স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার পরে স্পিকার সেই চিঠি নির্বাচন কমিশনকে পাঠায়। আমরা যেহেতু সরাসরি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি, সেজন্য ষ্পিকারকে আর চিঠি দেওয়া হয়নি।
দলের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নাজিবুর রহমান বলেন, নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এখন দলের কেউ নন। ফলে যিনি দলের কেউ নন, দল তাকে কেন পদত্যাগ করতে বলবে?
উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ১২(১) ধারায় সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হলে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার শর্ত পূরণ করতে না পারলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।
এর আগে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় আজ বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সংগঠনটি ফেসবুকে একটি পোস্টে জানায়, সম্প্রতি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য পদও হারাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিল জামায়াত।
সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে তার একটি ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ভাইরাল হয়। এর পর বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে জামায়াত। সংগঠনটি জানিয়েছে, তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
