আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ। মেসি প্রথম গোলের পর চোখের জল আটকাতে পারেননি। বাড়িতে অসুস্থ বাবাকে রেখে এসেছেন বিশ্বকাপে খেলতে। দুশ্চিন্তার সেই পাথর বুকে চেপেই সমর্থকদের চোখে মায়াঞ্জন মেখে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু মেসির ভেজা চোখ দেখে আর্জেন্টিনার ভক্তরা আর চুপ করে থাকতে পারেননি। গ্যালারিতে গান ধরেন অনেকেই। জীবনভর যাঁর খেলার মোহে ডুবে কত রকম বাজে সময় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া গেছে, তাঁর জন্য অন্তত অতটুকু তো করাই যায়!
কিংবা না করলেই–বা কী হতো?
সেই যে সেই সময়টা, যখন আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘মেসি একা কী করবেন’ হাসিঠাট্টায় মুখর বিশ্ব, তখনো তো তাঁর জীবনে খারাপ সময় এসেছে। লোকে বলেছে, সে শুধুই বার্সেলোনার, আর্জেন্টিনার নয়। এমন কথায় কান পচতে পচতে আর মাঠে আকাশি-সাদায় ব্যর্থ হতে হতে মেসি তো অবসরও নিয়েছিলেন। দরদ তো অনেকেরই ছিল, কিন্তু তির্যক রসিকতা কি তখনো থেমেছিল?
না। থামেনি। থামেননি মেসিও।
আবারও মাঠে ফিরে ধীরে ধীরে সেই যে নিজেকে আরও উজার করে নিংড়ে দিতে শুরু করলেন, সেটা থামেনি আজও। আর এভাবে মেসিও আসলে এখন আর শুধুই ফুটবলের সীমানায় নেই। মেসির পায়ে বল দেখলে আগে অনেকেই যেমন দুঃখ-কষ্ট ভুলে যেতেন, এখনো ঠিক তা–ই। ভেজা চোখ দুটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পেপ গার্দিওলা সম্ভবত এ জন্যই বলেছিলেন, ‘তাকে নিয়ে লিখো না, বর্ণনার চেষ্টাও কোরো না। শুধু দেখে যাও।’
মেসির জন্মদিন বয়ে এনেছে আনন্দের উপলক্ষ। কিন্তু এবারের সুরটা একটু ভিন্ন। বিশ্বকাপের মাঝে ৩৯ বছরে পা রাখলেন মেসি—এই কথাটি বলতে গিয়ে সবচেয়ে বড় অস্বস্তির বিষয় হলো, গোধূলিতে সূর্যের অস্ত যাওয়াটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আঁধার নামবে আরেকটু পরই।
মেসির এবারের জন্মদিনটা মোটেও আনন্দের উপলক্ষ নয়; বরং তা অনেকের জন্যই মনে মনে অবলম্বন হারানোর চোখরাঙানি। তবু তো বলতেই হবে, শুভ জন্মদিন, ‘অন তে’ ইম’(আমরা তোমাকে ভালোবাসি)। এই বলায় যে দলা দলা কষ্টে গলাটা ধরে আসে, মেসি তার কতটুকু জানেন!
