People Voice
অর্থনীতি

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫,৯০৩ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকগুলো যাতে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব আমানতকারীর অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের সংকট উত্তরণে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এই সহায়তার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সংকটে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে স্থায়ী সমাধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ইতোমধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত দেড় বছরে দেশের বেশ কিছু শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তারা ব্যাংক থেকে তাদের সঞ্চিত বড় অঙ্কের টাকা একবারে তুলতে পারছেন না এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত উপায়ে ঋণ বিতরণই এই সংকটের প্রধান কারণ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর কাজ জোরদার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তঃব্যাংক সহায়তা এবং বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Related posts

সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে, বেড়েছে মুরগি-মাছের দাম

News Desk

এয়ার কার্গো সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর বাংলাদেশ

News Desk

‘শূন্য’ রিটার্ন দিলে ৫ বছর পর্যন্ত জেল: এনবিআর

News Desk