আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে বিচার শুরু হয়েছে। একজন বিচারকের কেলেঙ্কারির জেরে আগের বিচারকাজটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক বছর পর আবার নতুন করে এই বিচার শুরু হয়েছে।
নতুন এই বিচারকাজে প্রায় ১২০ জন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য তার চিকিৎসক দল দায়ী কি না, তা আবারও খতিয়ে দেখা হবে।
ম্যারাডোনাকে চিকিৎসায় অবহেলা করে হত্যার অভিযোগে গত বছরের ১১ মার্চ সাত চিকিৎসকের বিচার শুরু হয়। তবে আসামিরা শুরু থেকেই অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছেন। তাঁদের দাবি, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে চিকিৎসক দলের ওই সদস্যদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর হার্ট ফেইলিউর এবং ফুসফুসে তরল জমার কারণে (অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমা) তার মৃত্যু হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের উত্তরের শহরতলি টাইগ্রেতে ম্যারাডোনার সেরে ওঠার সময়কার পরিবেশ নিয়ে চিকিৎসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সরকারি কৌঁসুলিরা একে চিকিৎসকদের ‘চরম অবহেলা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ম্যারাডোনা কোকেন ও মদের আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে আগের বিচারকাজটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, বিচারক হুলিয়েতা মাকিনতাখ আদালতের বারান্দা ও নিজের দপ্তরে একটি প্রামাণ্যচিত্রের কাজে যুক্ত ছিলেন। এটি বিচারিক নিয়মের লঙ্ঘন। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই বিচারকাজ আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
কিংবদন্তি ম্যারাডোনা
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। করোনা মহামারির চরম আতঙ্কের মধ্যেও লাখো আর্জেন্টাইন রাস্তায় নেমে এসে শোক পালন করেন।
ফুটবল মাঠের অন্যতম সেরা ও আইকনিক খেলোয়াড় হিসেবে প্রশংসিত ম্যারাডোনা বহু বছর ধরে মাদকের সঙ্গে লড়েছেন। ইতালির নেপলস শহরে খেলার সময় সেখানকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল বলে শোনা যায়।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তার অসাধারণ নৈপুণ্য ক্রীড়া ইতিহাসে এক রূপকথায় পরিণত হয়েছে। ওই আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রথম গোলটি ছিল চরম বিতর্কের জন্ম দেওয়া ‘হ্যান্ড অব গড’। এই গোলের সুবাদেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। উল্লেখ্য, ঠিক চার বছর আগেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (স্প্যানিশ ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা।
একই ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল জাদুকরী। নিজেদের হাফ থেকে দৌড় শুরু করে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে সেই অবিস্মরণীয় গোলটি করেছিলেন তিনি।
২০০০ সালে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ম্যারাডোনাকে ‘শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন।
