মারধর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মডেল ও অভিনেত্রী ইসরাত জাহান ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীর করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়া।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চান তিনি। শুনানি নিয়ে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় বাদীর মেডিকেল রিপোর্ট আসা পর্যন্ত নজরুল ইসলামের জামিনের আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারিকুল ইসলাম।
এদিকে সোমবার মামলার এজাহার আদালতে এলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তা গ্রহণ করেন। ২৫ অগাস্টের মধ্যে খিলক্ষেত থানার এসআই সালাহউদ্দিন রাসেলকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিজ্ঞাপন চুক্তির নামে ডেকে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রোববার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন অভিনেত্রী ও মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী।
মামলায় করা অভিযোগের বরাতে খিলক্ষেত থানার ওসি সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “ইমন নামে একজন স্নিগ্ধাকে প্রায় এক মাস ধরে আশিয়ান সিটির বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য বলছিলেন। পরে ইমনের সঙ্গে চুক্তির টাকা নিয়ে কথা বলার পর গত শুক্রবার আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্নিগ্ধার দেখা করার তারিখ নির্ধারণ হয়। ওইদিন রাজধানীর তিনশ ফিটে আশিয়ান সিটির মেডিকেল কলেজে যাওয়ার কথা বললে স্নিগ্ধা সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে স্নিগ্ধা সেখানে তার মাকে নিয়ে যান।
“পরে স্নিগ্ধা সাংবাদিকদের বলেছেন, অত্যন্ত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চেয়াম্যানের কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাকে বাইরে রেখে ইমন এবং তিনি নজরুল ইসলামের কক্ষে যান। পরে তার মা চলে যান। কক্ষে ঢোকার পর ‘তিনমাস ধরে খুঁজছে’ দাবি করে নজরুল ইসলাম তাকে জেবা তাকিয়া নামে এক মহিলা মনে করে রশি দিয়ে পা বেঁধে ফেলে। এ সময় কক্ষ থেকে ইমনকেও বের করে দেওয়া হয়।”
অভিযোগ সূত্রে ওসি আরো বলেন, “স্নীগ্ধাকে জেবা তাকিয়া নামটি মেনে নেওয়ার জন্য ইমন তাকে ইশারা করেছিল বলে দাবি তার। স্নিগ্ধা দাবি করেছেন, পা বাধাঁর সময় নজরুল ইসলাম রশিটি দেখিয়ে বলেন, এই রশি দিয়ে হাসিনা-রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীরা তার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। তার মত মেয়ে মরলে কিছু যায় আসে না।”
“স্নীগ্ধার দাবি, নজরুল সে সময় তাকে ব্যাপক মারধর করলে তিনি বেশ আহত হন। এছাড়া মুখে গরম কফি ছুঁড়ে মারা হয় এবং চাকু দিয়ে মুখ কেটে দেওয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে নজরুল বাইরে থাকা ইমনকে ডেকে স্নিগ্ধাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাইরে বারান্দায় এসে স্নীগ্ধা দোতলা থেকে নিচে লাফ দেন। এসব ঘটনার পুরোটাই এখন তদন্তের বিষয়।”
অভিযোগে স্নিগ্ধা আরো দাবি করেন, ঘটনার পর একদিন অচেতন ছিলেন তিনি। পরে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন এবং স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে রোববার মামলা করেন।
