People Voice
ঢাকা

ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা থেকে রোগীর চাপ কমাতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালকে আরও সক্ষম করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমসি ডে-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং চলমান নানা বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
পাশাপাশি রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চিকিৎসকদের শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসেরও জীবন্ত সাক্ষী। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েই এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শুধু দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকই তৈরি করেনি; এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু কৃতী মানুষ বের হয়েছেন। মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ উৎসর্গ করতেও তারা কখনও কুণ্ঠাবোধ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে যেসব মহান মানুষ আজ আমাদের মধ্যে নেই, তাদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের রেখে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠান আজও মানুষের সেবায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ পথচলায় দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীবাসীর চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসার জায়গা এই হাসপাতাল। এর প্রতিটি ওয়ার্ড ও করিডোর প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আশা-নিরাশা, আনন্দ-বেদনা এবং নতুন জীবনের গল্পের সাক্ষী হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ‘এখানে যেমন প্রতিদিন অনেক জীবনের অবসান ঘটে, তেমনি অসংখ্য নতুন জীবনেরও সূচনা হয়। স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে যখন একজন চিকিৎসকের কান থাকে, অন্য প্রান্তে তখন স্পন্দিত হয় একটি মানুষের জীবন। চিকিৎসক ও রোগীকে ঘিরেই আবর্তিত হয় একটি পরিবারের অগাধ বিশ্বাস।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান প্রমুখ।

Related posts

বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাল যুক্তরাষ্ট্র

News Desk

খালের জায়গায় থাকা দোতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিল সিটি করপোরেশন

News Desk

ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম

News Desk