People Voice
অর্থনীতিলিড নিউজ

ব্যবসার আড়ালে স্মার্ট টেকনোলজির অর্থপাচার,তদন্তে স্থবিরতা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়া সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি গঠন এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও আয়ের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই। অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, জহিরুল ইসলাম ও তাঁর ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় এক বছর আগে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখনো তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি খাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও ব্যবসা বিস্তৃত করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ২০০৯ সালে জহিরুল ইসলাম ও তাঁর ভাই মাঝহারুল ইসলাম সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যার প্রাথমিক মূলধন ছিল ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৫৮ কোটি টাকা)। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যেখানে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান। সিঙ্গাপুরের সরকারি নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধিত হয়েছে, যা অর্জনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ব্রাদার্সের নামে দুটি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর একটি ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’, যা ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। এতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিন মহাদেশে বিস্তৃত বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় অবস্থিত। এই কোম্পানির ব্যবসাও একাধিক দেশে বিস্তৃত।

এসব বিদেশি বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কাছে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য দেননি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখতে হবে।”

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

Related posts

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব: মির্জা ফখরুল

News Desk

দেশজুড়ে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা

News Desk

বাংলাদেশ যাতে মৌলবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়

News Desk