৮৮ মিনিটে তৃতীয় গোলের সুযোগটাও পেয়ে যায় ফ্রান্স। কিন্তু জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা পারেননি সুযোগটা কাজে লাগাতে। যদি বক্সে আরেকটু শান্ত ও সংযত থেকে ফিনিশিংটা করতে পারতেন তিনি, তবে স্কোরলাইনটা ৩–০ হতে পারত। গোল করে ৭৭ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন এমবাপ্পে। তাঁর বদলে মাঠে নেমেছেন জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা।
ফ্রান্স যেন অনেকটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে মরক্কোর দুর্দান্ত যাত্রা শেষ হওয়ার মুখে।
কিলিয়ান এমবাপ্পের দৌড়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে সামনে এগিয়ে যান উসমান দেম্বেলে। এরপর নিচের কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া তাঁর নিখুঁত শটে আর কোনো সুযোগই ছিল না গোলরক্ষকের।
আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের, সুযোগও তৈরি করেছিল একাধিক। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস এবং মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর দুর্দান্ত দৃঢ়তায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ০-০ সমতায়।
বোস্টনে শুক্রবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফ্রান্সের দখলে। পঞ্চম মিনিটে দূরপাল্লার শটে এমবাপ্পে প্রথম পরীক্ষায় ফেলেন বুনোকে। কর্নার থেকে দাওত উপামেকানোর হেডও সহজেই রুখে দেন মরক্কোর এই গোলরক্ষক।
১০ মিনিটের পর আরও কয়েকটি আক্রমণে মরক্কোর রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে প্রতিটি সুযোগই নষ্ট হয় শেষ মুহূর্তে কিংবা বুনোর দৃঢ়তায়।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ২৫তম মিনিটে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এমবাপ্পে বক্সে ঢুকলে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষা ও কয়েক মিনিটের অপেক্ষার পর স্পট কিকে যান এমবাপ্পে। ২৮তম মিনিটে নেয়া তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনো, ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফরাসিরা।
এরপরও ফ্রান্স আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৩৬তম মিনিটে দেজিরে দুয়ের নিচু শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বুনো। কর্নার থেকে জুল কুন্দের হেডও সহজেই তালুবন্দি করেন তিনি।
অন্যদিকে মরক্কো প্রথমার্ধে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালালেও গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে তেমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। শেষদিকে আশরাফ হাকিমির একটি ফ্রি-কিকও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বিরতির ঠিক আগে লুকা দিনিয়ের দারুণ এক দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর লেগে ফিরে এলে গোলের আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয় ফ্রান্সের।
ফলে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, বুনোর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ফ্রান্সের সুযোগ নষ্ট করার হতাশায় গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
