বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বর্ষীয়ান নেতা, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু শার্শা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা, উন্নয়নের দিকনির্দেশনা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে তিনি চান “যুবসমাজকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কৃষিকে আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে শার্শাকে সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরিত করা।”
বর্তমানে যশোর-১ (শার্শা) আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা স্মৃতিচারণা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শন, নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার নিয়ে।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শার্শার উন্নয়নের সূচনা
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খায়রুজ্জামান মধু বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব যখন ‘খাল খনন কর্মসূচি’ চালু করেন, তখন আমরা ছাত্রাবস্থায় অংশ নিয়েছিলাম। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে খাল খননের উদ্বোধন করেন—আমি তা নিজের চোখে দেখেছি। দিনরাত তিনি শ্রম দিয়ে কাজ করতেন, মানুষের সঙ্গে মিশে মাঠে কাজ করতেন।”
তিনি আরও বলেন,“জিয়ার রহমানের উদ্যোগে শার্শা থানায় যে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছিল, তা আজও আমাদের কৃষিজীবী মানুষের জীবনধারায় প্রভাব ফেলছে। পানিসম্পদে সমৃদ্ধ এই এলাকা এখনো সেচ সুবিধা পাচ্ছে ঐ খালগুলোর মাধ্যমেই। মাতলার ঘাট থেকে ফুলগড়া থানার সোনামুখী পর্যন্ত জলপথ উন্নয়নের ফলে কৃষকরা সেচে স্বনির্ভর হয়েছে।”
গর্বের সঙ্গে মধু বলেন,“আমি গর্বিত যে এমন একজন নেতার অধীনে রাজনীতি শিখেছি, যিনি মৃত্যুর পর রেখে গিয়েছিলেন মাত্র একটি শার্ট ও একটি গেঞ্জি। জিয়াউর রহমান ছিলেন এক বিরল চরিত্রের দেশপ্রেমিক। তার সততা, দেশপ্রেম ও উন্নয়ন চিন্তাধারা আমাকে আজও অনুপ্রাণিত করে।”
শার্শার বর্তমান সমস্যা ও তাঁর উন্নয়ন অঙ্গীকার
শার্শার চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যুবসমাজের অবক্ষয়। মাদকাসক্তি, বেকারত্ব ও দিকহীনতা তরুণদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার প্রথম অঙ্গীকার—শার্শাকে নেশামুক্ত করা। যুবসমাজকে কর্মে যুক্ত করলে তারাই এই অঞ্চলের শক্তিতে পরিণত হবে।”
তিনি জানান, শার্শায় তিনটি প্রধান খাল রয়েছে—যেগুলো শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খনন করা হয়েছিল। “যদি এই খালগুলিতে সারাবছর পানির প্রবাহ বজায় রাখা যায়, কৃষকরা সহজে সেচ পাবে এবং ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। এ খালগুলো আমাদের কৃষি উন্নয়নের প্রাণরেখা।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের চাবিকাঠি। একজন শিক্ষিত মানুষ অপরাধ থেকে দূরে থাকে, সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রণোদনা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা আমার কর্মপরিকল্পনায় থাকবে।”
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে তিনি যোগ করেন, “শার্শায় স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা এখনো দুর্বল। ডাক্তার সংকট, ওষুধের অভাব, আর হাসপাতাল সেবার ঘাটতি দূর করতে আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষকে সহজ ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল মানুষ চায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা। কিন্তু সমাজে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনিয়ম বেড়েছে। সৎ ও ত্যাগী নেতাদের রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।”
রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে খায়রুজ্জামান মধু বলেন,“২০০৭ সালে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে শার্শার এক বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে একজন অফিসার আমাকে হত্যার নির্দেশ দেন—কিন্তু আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়ায় আমি বেঁচে যাই।”
তিনি জানান,“আমি সাড়ে এগারো মাস কারাভোগ করেছি। আমার বাড়ি ও অফিসে বহুবার হামলা হয়েছে। তবুও জনগণের ভালোবাসা, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বিএনপির প্রতি বিশ্বাস আমাকে রাজনীতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।”
মনোনয়ন প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যশোর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি বলেন,“যদি দল আমাকে আস্থা দেয়, আমি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে শার্শাকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত, মাদকমুক্ত ও স্বনির্ভর অঞ্চলে রূপান্তরিত করব।”
তার মূল কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো হলো—
-
যুব কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
-
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ।
-
স্থানীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন।
-
সুশাসন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
সাক্ষাৎকারের শেষে খায়রুজ্জামান মধু আবেগভরে বলেন, “আমার জীবনের প্রেরণা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর সততা, কর্মস্পৃহা ও দেশপ্রেম আমার রাজনৈতিক চেতনার উৎস। শার্শার মানুষই আমার শক্তি, তাদের সেবা করাই আমার রাজনীতি। আমি চাই—তাদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলতে এক সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাবান শার্শা।”
