People Voice
অপরাধ

ধ্বংসস্তূপে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম এবং ওষুধের কাঁচামাল

আমদানি কার্গো ভবনে আগুনে সেখানে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও পুড়ে গেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মমতা ট্রেডিং কোম্পানির বিপ্লব হোসাইন বলেন, ছয় দিন আগে পণ্যগুলো এসেছে, রোববার (গতকাল) খালাসের কথা ছিল। কিন্তু এনওসি পেতে দেরি হওয়ায় খালাসের আগেই সব পুড়ে গেছে।

ওষুধের জন্য আমদানি করা কাঁচামালও পুড়ে গেছে। এতে ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমএস জি এস কোম্পানির কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, তাঁদের আমদানি করা প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে গেছে। তাঁরা দেশের নামীদামি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর জন্য চীন, ভারত ও জার্মানি থেকে কাঁচামাল আনেন। ভেতরে তাঁদের ২০টি শিপমেন্ট ছিল, সবই পুড়ে গেছে। এসব কাঁচামাল দিয়ে ক্যানসারসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হতো। এতে ওষুধ উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস এলেও সঙ্গে সঙ্গে ঢুকতে পারেনি। ৮ নম্বর গেটে তাদের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ জন্য বেশ কিছুটা সময় চলে যায়। এই সময়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গেটে দেখা গাড়ি হয়তো অন্য সংস্থার ছিল।’

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এটি একটি কেপিআই এলাকা, এখানে নিজস্ব ব্যবস্থাও রয়েছে।

আগুন নেভাতে প্রায় ২৭ ঘণ্টা লাগার জন্য পাঁচটি কারণ বলেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রথমত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য বস্তুর আধিক্য, দ্বিতীয়ত স্টিল স্ট্রাকচারে তাপ শোষণ, তৃতীয়ত অপরিষ্কার ও গাদাগাদি পরিবেশ, চতুর্থত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সর্বশেষ ছোট ছোট স্টিলের স্ট্রাকচার কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বলেন, কার্গো ভিলেজের যে অংশে আগুন লেগেছিল, এর প্রতিটি জায়গা খোপ খোপ করে ভাগ করা ছিল এবং ভেতরে অনেক অংশ স্টিলের তৈরি। স্টিলের কাঠামো দিয়ে একতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত আছে, এ জন্য আগুন নেভাতে এত সময় লেগেছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে যদি অ্যাকটিভ অথবা প্যাসিভ—মানে আমাদের যেকোনো ধরনের ডিটেকশন সিস্টেম থাকত এবং তার সঙ্গে প্রোটেকশন সিস্টেম থাকত, তাহলে হয়তো দুর্ঘটনা এত বড় হতো না। আমাদেরও তদন্ত করে বের করতে হবে, আসলে কখন কীভাবে এই আগুন লাগল।’

Related posts

টাকা লুটে সাবেক সেনা ও পুলিশ সদস্যরা জড়িত : ডিএমপি

News Desk

‘ট্রাফিক সহায়ক গ্রুপের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

News Desk

জুলাই আন্দোলনে শহীদের মেয়েটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, হাসপাতালে ক্ষোভ

News Desk