People Voice
স্বাস্থ্য

ডেঙ্গুর শঙ্কা বাড়ছে,হাসপাতালে ভর্তি ৪৪৫

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। কয়েকটি জেলা রীতিমতো ডেঙ্গুর হট স্পটে পরিণত হয়েছে।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেলেও ঢাকা ছাড়া অন্য কোথাও তেমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও প্রস্তুতি না নেয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ১০ জেলায় সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে। এই ১১ জেলায় রোগী পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৩৯৮ জন। দুই মাস আগে গত ১৫ এপ্রিল এসব জায়গায় রোগী ছিল এক হাজার ৪৩৪ জন। সে হিসেবে এই দুই মাসে রোগী বেড়েছে চার গুণের বেশি।

এবার জানুয়ারি থেকেই দেশের ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলো এক হাজার ১৬১ জন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল থেকে আবার বাড়তে থাকে। মে মাসে  এক হাজার ৭৭৩ জন আর জুনের ১৭ দিনে দুই হাজার ১২১ জন। সামনে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর তীব্রতা আরো বাড়বে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা এত দিন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা কেন্দ্রিক কাজ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশে সব জায়গায়ই এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। ফলে এখন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এডিস মশার প্রজননের জন্য ঢাকার বাইরেও দালান কোঠা, ভবন আছে। আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দেইনি। আর জেলা বা উপজেলার হাসপাতালগুলোর এত রোগী সামাল দেয়ার সক্ষমতা নেই। অনেক হাসপাতালে আইসিইউ নাই।””সামনে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন,” গত বছরেই বলেছিলাম বরিশাল, বরগুনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে। এর কারণ হলো,  আমরা জরিপ করতে গিয়ে দেখেছি প্রাদুর্ভাব হওয়ার তিনটি উপাদান হোস্ট (মানুষ), প্যাথোজেন (ডেঙ্গু ভাইরাস) এবং এনভায়রনমেন্ট (এডিস মশার প্রজণনের উপযোগী পরিবেশ)- এই তিনটিই অনুকূলে ছিল। তখনই আমরা ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। কিন্তু নেয়া হয়নি।”

কমিউনিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরীর কথা,” ২০১৯ সালে ডেঙ্গু মহামারির পর এডিস মশা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এবার এখন পর্যন্ত ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। কিন্তু এডিস মশা প্রতিরোধে ঢাকাসহ কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ নেই। আর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগও তেমন কার্যকর নয়। আসলে আমাদের সমন্বিত কোনো ব্যবস্থাপনাই নাই।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ বলছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার চেয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার উপস্থিতি বেশি৷ যেসব বাড়িতে এডিস মশা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ৩৯.৮ শতাংশ বহুতল ভবন এবং ৩২ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন৷

গত বছর এটা ছিল গড়ে শতকরা ১১ ভাগ৷ ঢাকার চার শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে৷ আর এই এডিস মশাই ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক৷

Related posts

হাত–পায়ের নখ ভালো রাখবে ৬টি খাবার

News Desk

ঘাড়ব্যথার কারণগুলো কী কী, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা জেনে রাখুন

News Desk

চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে মারামারি-বিক্ষোভ, দিনভর স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

News Desk