People Voice
অর্থনীতি

জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে ৪.৩%

গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপ দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়েছে। অন্যদিকে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ক্রয়চাহিদা প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোক্তাদের ব্যয়চাপ বেড়ে দুগ্ধপণ্যের ব্যবহার সীমিত হয়ে এসেছে। ফলে নিলামে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে দাম কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের। খবর এনজেড হেরাল্ড, চিজ রিপোর্টার ও ফারমারস উইকলি।

ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ (ডব্লিউএমপি)। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম নেমে এসেছে টনপ্রতি দাম ৩ হাজার ৮০৯ ডলারে, যা আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম।

ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননি ছাড়া গুঁড়া দুধ (এসএমপি)। জিডিটি নিলামে পণ্যটির দাম আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৬২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় মোজারেলা পনিরের দাম স্থির হয়েছে টনপ্রতি দাম ৪ হাজার ২৪৪ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

জিডিটিতে মাখনের গড় মূল্য নেমে এসেছে টনপ্রতি ৬ হাজার ৯৬৯ ডলারে। এটি আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। অ্যানহাইড্রাস মিল্কফ্যাটের গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৬ হাজার ৯১৭ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে আগামী বছরের মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে দাম কমেছে।

বাটার মিল্ক পাউডারের দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৮৬৮ ডলার হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কম। একাধিক ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ৯ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন দেখা গেছে।

নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) হেড অব ডেইরি ইনসাইটস ক্রিস্টিনা আলভারাদো জানান, এ নিলামে চীনের অংশগ্রহণ বেড়ে মোট ক্রয়ের অর্ধেকে পৌঁছেছে, আগের নিলামে যা ছিল ৩৪ শতাংশ। তবে এ সময় অন্য সব অঞ্চলের চাহিদা কমেছে। চাহিদার এ পুনর্বিন্যাস দাম কমার পেছনে বাড়তি ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে দুধ সংগ্রহ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েতে উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪, ৭ দশমিক ৭ ও ৩ শতাংশ। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় মে মাসে উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ায় জুলাইয়ে উৎপাদন ৪ শতাংশ কমেছে।

আলভারাদো বলেন, ‘ডব্লিউএমপি ও ফ্যাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়ায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। নিম্নমুখী চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধি দামে তীব্র চাপ তৈরি করছে।’

তবে জিডিটির সর্বশেষ নিলামে শুধু চেডার পনিরের দাম বেড়েছে। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির সব চুক্তিতেই দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চেডার পনিরের টনপ্রতি গড় মূল্য দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭০৯ ডলার, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

Related posts

সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে, বেড়েছে মুরগি-মাছের দাম

News Desk

বিদেশে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান

News Desk

এনবিআর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে কর্মকর্তাদের অবস্থান

News Desk