বাইরের সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি শরীরের ভেতরেরও যত্নের প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার।শরীরের ভেতর ও বাইরে—দুটোই ভালো রাখে এমন একটি পানীয় হলো ডাবের পানি। প্রতিদিন একটি ডাবের পানি খেলে শরীর হবে সুস্থ, ত্বক হবে সুন্দর।
এছাড়া প্রতিদনই তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এই খুব রোদ তো, তখন আবার বৃষ্টি। এতকিছু করেও এ পরিস্থিতিতে কি গরম কমানো যাচ্ছে? যাচ্ছে না। উল্টো ঘেমেনেয়ে একাকার অবস্থা। ক্লান্তি আসে। অসহ্য লাগে। এসব তুরুপেই শেষ হয়ে যেতে পারে একটা ডাব খেলে।
ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে ডাবের পানি দারুণ কাজ করে। শুধু পানিশূন্যতা দূর করে তা নয়, ডাবের পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া পাবেন উপকারীতা।
ডাবে আছে কার্বোহাইড্রেড, যা শক্তি বাড়ায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা পূরণ করে। ডাবের পানিতে যে প্রাকৃতিক শর্করা ও মিনারেল আছে, তা শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখে। এর ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি খেলে অ্যাসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ডাবের পানিতে আছে ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়।
ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য সমস্যায় ডাবের পানির ব্যবহার বেশ প্রচলিত। ডাবের পানিতে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ।
নিয়মিত ডাবের পানি খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। তাই শরীরের ভেতরে হজম না হওয়া খাবার মেদ হিসেবে জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।
ডাবের পানি পেট পরিষ্কার রাখে। তাই ব্রণ বা কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি, যা ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
ডাবের পানিতে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। তাই ডাবের পানি নখের ভঙ্গুরতা দূর করতে সাহায্য করে। নখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
নিয়মিত ডাবের পানি খেলে চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমায়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকায় ঠোঁট ফাটা ও ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করে।
ডাবের পানি প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের জন্যও ডাবের পানি খুব উপকারী। এছাড়া ডাবের পানিতে রয়েছে ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্টই শুধু করে না পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।
