সুন্দরবনের নাম উচ্চারণ করলেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অচেনা নীরবতার ছবি। এখানে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রহস্য, হরিণের অবাধ বিচরণ, নদীতে ডলফিনের খেলা, অসংখ্য পাখির ডাক। এখানে গাছেরা দাঁড়িয়ে আছে শত বছর ধরে, মাটির নিচে শিকড় গেঁথে রেখেছে প্রকৃতির ভারসাম্য।
শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে যখন আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন সুন্দরবনের গহিনে, তখন বুঝবেন প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার অনুভূতি কাকে বলে। এই অনুভূতি শুধু চোখে নয়, মনে রয়ে যাবে আজীবন।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পর্যটকদের ভ্রমন। গত বছর পর্যটক মৌসুমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। তারপরও ২ লাখ ৩০ হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন। এরমধ্যে ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে তিন দিনের প্যাকেজে ৫৯ হাজার পর্যটক গিয়েছিলেন। আর বাকিরা একদিনের প্যাকেজে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন।
সুন্দরবনে ভ্রমণ মানেই অনেক দূরে লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। তাই সঙ্গে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোবাইল চার্জার, শীতকালে ভারী পোশাক। অবশ্যই দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করতে হবে, সঙ্গে থাকবেন বন বিভাগের নিরাপত্তারক্ষী।
সুন্দরবনে মোবাইল নেটওয়ার্ক একেবারে নেই তা নয়, তবে সীমিত। বিভিন্ন অপারেটরের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে। তুলনামূলকভাবে টেলিটকের নেটওয়ার্ক এখানে শক্তিশালী।
ভ্রমণের সময় মনে রাখতে হবে—সুন্দরবন শুধুই আমাদের ভ্রমণের স্থান নয়, এটি লাখো প্রাণীর আবাসস্থল। তাই বনের ভেতরে যতটা সম্ভব নীরব থাকতে হবে, কোনোভাবেই বর্জ্য বা প্লাস্টিক ফেলা যাবে না।
