নদী আর বনের মিলন যেখানে, সেখানেই জন্ম নিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন—সুন্দরবন। তিন শতাধিক নদী, খাল ও খাড়ির আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে এই বন দাঁড়িয়ে আছে, মানুষের ভিড় থেকে কিছুটা দূরে, অথচ কাছে টানে আপন মহিমায়। এখানে ঢুকলেই পৃথিবীর সব কোলাহল মিলিয়ে যায়—শুধু শোনা যায় প্রকৃতির নীরব সুর, পাখির ডাক, জোয়ার-ভাটার ছন্দ আর বাতাসে দুলে ওঠা গাছের ফিসফিসানি।
প্রকৃতিকে বিকশিত হওয়ার সময় দেওয়ার জন্য জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এই সময় বনে প্রবেশের অনুমতি থাকে না বনজীবীদেরও। বনের প্রাণীরা যেন নিজের মতো করে বাঁচতে পারে, বংশ বিস্তার করতে পারে, তার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর এলেই আবার খুলে যায় বনের দরজা। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
সুন্দরবনের ভেতরে কোনো হোটেল নেই। এখানে থাকতে হয় লঞ্চ বা ট্রলারে। সেখানেই চলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া। তাই একা একা বা চাইলেই সুন্দরবনে যাওয়া যায় না। এর জন্য ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হয়। তারাই বন বিভাগের অনুমতি থেকে শুরু করে গাইড, নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন।
সুন্দরবনে ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনের নাম ‘সুন্দরবন টুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন’। খুলনা ও ঢাকায় তাদের অফিস আছে। গুগল করেও তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের খোঁজ পাওয়া যাবে। সংগঠটির অধীনে মোট ৬৫টি নৌযান আছে।
ঢাকা থেকে সুন্দরবনে যেতে চাইলে প্রথম গন্তব্য খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা বা সাতক্ষীরার শ্যামনগর। সেখান থেকেই শুরু হয় আসল যাত্রা। তবে বেশ কিছু ট্যুর অপারেটরস ঢাকা থেকে নদী পথে পর্যটকদের সেবা দিচ্ছেন। ঢাকার সদরঘাট থেকে করপোরেট প্যাকেজে পর্যটকরা বিভিন্ন নদী ঘুরে সুন্দরবনে আসছেন।
তবে একদিনের জন্য সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে চাইলে যেতে পারেন মোংলার অদূরে করমজল বা হাড়বাড়িয়া। খুলনা থেকে নদী বা সড়ক পথে কালাবগী কিংবা ট্রলারে করে শেখেরটেক এবং ঢাকা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরা আর সেখান থেকে নৌযানে কলাগাছিয়া বা দোবেকীতে যাওয়া যায়। তবে হাড়বাড়িয়া, শেখেরটেক ও দোবেকীতে ঢুকতে হলে বন বিভাগের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।
