বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা বা ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আলোচনা হলেও সরকারগুলো তা কার্যকর করতে পারেনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, পারেনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারও। ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক-মহাসড়ক, সর্বত্র এখন অটোরিকশার দখলে।
তবে আ’লীগ সরকারের আমলে যাত্রা শুরু করা অটোরিকশার দৌরাত্ম্য সরকার পরিবর্তনের পর যেন আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
বিগত কয়েক মাসে অনেকবার ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা অটোরিকশা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এবং অটোরিকশা চালকরা স্বভাবতই তার বিরোধিতা করেছেন।
এমনকি, অটোরিকশা প্রধান সড়কে চলতে পারবে নাকি পারবে না, এই বিতর্কের জের ধরে মারপিটের ঘটনাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছুদিন পরপরই ঘটছে।
এক্ষেত্রে কয়েকদিন আগে ঢাকার বনানীতে অটোরিকশা চালকদের সাথে পথচারী-বাইকারদের সংঘর্ষের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুলশান সোসাইটি কয়েকদিন আগে ঘোষণা করেছিলো যে ওই এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না।
কিন্তু সোসাইটির ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি রিকশাচালকরা। তারা সিদ্ধান্ত না মেনে গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালানোর দাবি জানিয়ে এসেছে।
পরে গত ২১শে এপ্রিল সোসাইটির লোকজন ওই এলাকার রাস্তায় চলমান কিছু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে আটক করলে চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে যান এবং এক পর্যায়ে তাদেরকে পথচারী-বাইকারসহ আন্দোলনের ছবি-ভিডিও ধারণকারীদেরকে লাঠি দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার ঘোষণা করে যে, বাজারে নতুন নকশার রিকশা আসবে, যার ব্রেকিং ব্যবস্থা এখনকার অটোরিকশার চেয়ে ভালো ও নিরাপদ। বলা হচ্ছে, সরকার শীঘ্রই এই রিকশার অনুমোদন দেবে। পাশাপাশি, চালকদের লাইসেন্সও দেওয়া হবে।
এ জন্য প্রচলিত স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হচ্ছে।
‘ঢাকা থেকে অটোরিকশাগুলো বাইরে চলে যাবে’
সরকার বলছে, নতুন ঐ রিকশা বর্তমানের অটোরিকশা সংক্রান্ত সমস্যাকে কমিয়ে দেবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আগে জানান , অটোরিকশার বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।
“ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে যেন ব্যাটারিচালিত রিকশা না আসে, সেজন্য সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কাজ করছে” বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকার শীঘ্রই “অটোরিকশাকে রিপ্লেস করে সেফার অটো রিকশা” চালু করবে।
এটি চালু হলে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলও অনেকাংশে নিরাপদ হবে বলে মত তার। তিনি বলেন, “নতুন রিকশা নামানোর আগে ট্রেইনিং দিতে হবে। ট্রেনিং ছাড়া নামানো রিস্কি।”
কিন্তু নতুন আরও রিকশা নামানো হলে পুরাতন রিকশাগুলোর কী হবে? জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “ডিজেলচালিত অটোরিকশা যখন ফেজআউট করা হলো, তখন ওগুলো গ্রামের দিকে চলে গেছে। ঢাকা থেকেও এই অটোরিকশাগুলো ওরকমভাবে বাইরে চলে যাবে।”
তবে এই পরিকল্পনায় বাস্তবায়নকে রীতিমতো অসম্ভব বলে মনে করছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এম শামসুল হক।”বললেই হলো যে ঢাকার বাইরে চলে যাবে? দায় নিয়ে কথা বলতে হবে”, বলেন তিনি।
তার মতে, ঢাকার প্রধান সড়কে চলাচলের জন্য অটোরিকশা চালকদের আন্দোলনকেই যেখানে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, সেখানে তাদেরকে ঢাকার বাইরে পাঠানো একপ্রকার কল্পনা।
